রেকর্ড দাম সত্ত্বেও এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোয় গত সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী ছিল ফিজিক্যাল গোল্ডের (স্বর্ণের কয়েন, বার বা গহনা) চাহিদা। এ সময় ভারতে মূলবান ধাতুটি কেনাবেচায় প্রিমিয়াম (মূল্য সংযোজন) ১০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম রেকর্ড ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯৯ রুপিতে পৌঁছেছে। এ সময় দেশটির ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ বেচাকেনায় আমদানি শুল্ক ও রফতানি করসহ আউন্সপ্রতি ২৫ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছেন। এটির আগের সপ্তাহের ১৫ ডলারের তুলনায় বেশি।
মুম্বাইভিত্তিক স্বর্ণের পাইকারি ব্যবসায়ী চেনাজি নরসিংহজির মালিক আশোক জৈন বলেন, ‘চলমান মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ খাতে চাহিদা বাড়ছে। যদিও গহনার চাহিদা এখনো কম।’
এদিকে সরকারি ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রেকর্ড দাম ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে ভারতের বাজারে স্বর্ণের পাচার বেড়েছে।
ভারতে রেকর্ড দামে স্বর্ণ বিক্রি হলেও পুরনো স্বর্ণের সরবরাহ তেমন বাড়ছে না। সাধারণত দাম বাড়লে ক্রেতারা স্বর্ণের পুরনো গহনা বা মুদ্রা বিক্রি করেন বাড়তি মুনাফার আশায়। স্বর্ণের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির পর দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীরা অধিক মুনাফার আশায় স্বর্ণের গহনা ও মুদ্রা জমিয়ে রাখছেন।
বিশ্বে স্বর্ণ ব্যবহারে শীর্ষ দেশ চীন। দেশটিতে গত সপ্তাহে স্পট মার্কেটের তুলনায় প্রতি আউন্স স্বর্ণ ২০-৬৬ ডলার ছাড়ে বিক্রি হয়েছে। ইনপ্রোভেডের প্রিসিয়াস মেটাল ট্রেডার হুগো প্যাসকাল বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মূল্যবান ধাতুর চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। চীনে আগে নিম্নমুখী থাকলেও চাহিদা আবার বাড়ছে।’
হংকংয়ে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে আউন্সপ্রতি ১ ডলার ৩০ সেন্ট পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করে। সিঙ্গাপুরে আউন্সপ্রতি ৫০ সেন্ট ছাড় থেকে ১ ডলার ৩০ সেন্ট প্রিমিয়াম পর্যন্ত স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে।
প্যাসকাল আরো বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে ডিলারদের মজুদ ক্রমেই কমছে। কারণ স্বর্ণের চাহিদা বেশি।’
জাপানে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে স্পট মার্কেটের তুলনায় ১ ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়ামে। টোকিওভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছলেও বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের চাহিদা এখনো অনেক বেশি।